ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: নব নির্বাচিত বর্ধমান পুর বোর্ডের প্রথম অফিসিয়াল মিটিংয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল বুধবার। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান মৌসুমী দাস সহ ৩৩জন কাউন্সিলার। দুজন কাউন্সিলার এদিনও বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত হননি। এদিন মিটিংয়ে পুর নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বর্ধমান পুর এলাকার নাগরিকদের ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘদিনের অমরুত প্রকল্পের কাজ অতি দ্রুত শেষ করে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা।
পাশপাশি শহরের প্রায় সব ওয়ার্ডের অলিগলি রাস্তায় পাইপ লাইন বসানোর জন্যে মাটি খুঁড়ে রেখে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে তার মেরামত করে এই সমস্যার দ্রুত নিরসন করা। এরই পাশাপশি ভূগর্ভস্থ জল তোলার সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর জন্য এদিনের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পুরবোর্ড না থাকায় এবং বর্ধমান শহরের জলস্তর গত কয়েকবছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে নেমে যাওয়ায় এবার সাবমার্সিবল বসানোর জন্য ফি এর পরিমাণ অনেকটাই বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এদিন।
চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে এই ফি এর পরিমাণ আগে ধার্য্য ছিল ৩হাজার টাকা। যা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। এরপরেও প্রতিটি দরখাস্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখে তবেই সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর অনুমোদন দেবে পুরসভা। এছাড়াও বর্ধমান পুর এলাকায় বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে প্ল্যানের জন্য অনলাইন মাধ্যমে পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি,পুরসভা ভবনে বয়স্কদের সুবিধার্থে লিফট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুরবোর্ড গঠন হওয়ার পর বুধবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হল বর্ধমান পুরসভায়। এদিনের বৈঠকে ৩৩ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে পুরসভার মিটিং হলে প্রথম বৈঠক হয়। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের নিয়ে আলোচনায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সামনেই গরমের মরশুম। পানীয় জলের সমস্যা বর্ধমান পুরসভার একটি বড় সমস্যা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বর্ধমান পুরসভার বোর্ড না থাকায় বেশ কিছু কাজ আটকে ছিল। অমরুত প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছানোর কাজ এখনও শুরু করা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে পানীয় জল সরবরাহ করাই একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ধমান পুরসভা তরফে সাবমার্শিবল বসানোর ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। এদিন পুরসভার বোর্ড মোটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সাবমার্শিবল বসানোর ক্ষেত্রে বর্ধমান পুরসভা থেকে অনুমোদন প্রক্রিয়া ফের চালু করা হবে। এক্ষেত্রে সাবমার্শিবল বসানোর জন্য পুরসভার ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাবমার্শিবল বসানোর জন্য আগে ৩০০০টাকা ফি নিত পুরসভা। সেই ফি বৃদ্ধি করে ৫০০০ টাকা করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়াও পুরসভার অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ থমকে ছিল, সেইসব কাজেও গতি আনতেও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।






0 comments:
Post a Comment